ফেসবুকে লাইক কমেন্টে সাবধান! না হলে দরজা খুলেই দেখবেন র‍্যাব/পুলিশ আপনার সামনে

সাবধান! ফেসবুক, ব্লগ কিংবা টুইটারে উসকানিমূলক পোস্ট দিলে আর রেহাই নেই। তবে কেবল পোস্ট দাতাই নয়, কমেন্ট কিংবা লাইক দাতারাও মুহূর্তের মধ্যে চলে আসবে নজরদারির মধ্যে।
তাদের দরজায় কড়া নাড়বে র‌্যাবের সদস্যরা। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সিস্টেম (এসএমএমএস) নামের উন্নত প্রযুক্তি খুব শিগগিরই যুক্ত হচ্ছে এলিট ফোর্স র‌্যাবের বলয়ে। বিশেষায়িত এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নজরদারির মধ্যে রাখবে ফেসবুক, ব্লগ, টুইটার, ইনস্টগ্রামসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বাদ থাকছে না বিভিন্ন ওয়েবপোর্টালও। প্রযুক্তির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ২০ জন র‌্যাব সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রসম্প্রতি পয়লা বৈশাখের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ এ বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও নজরদারির আওতায় আসছে। কেউ চাইলেই এখন আর এ ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে পার পাবে না। সূত্র জানায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ‘স্ন্যাপ ট্রেন্ডস’।
চুক্তি অনুযায়ী রয়েছে পাঁচ বছরের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টি। যে কোনো ধরনের সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে ওই প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে স্ন্যাপ ট্রেন্ডসের পক্ষ থেকে র‌্যাবের ২০ জন সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব সদর দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এই প্রযুক্তির কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে আরও র‌্যাব সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, গত কয়েক বছর ধরে এক শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে সরকারকে। এ ধরনের পরিস্থিতিগুলোকে বিবেচনায় এনে দেশে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তির সংযোজন ঘটাতে যাচ্ছে র‌্যাব।
দেশের আইনের পরিপন্থী কোনো পোস্ট দিলে মুহূর্তেই এর স্ক্রিন শট চলে আসবে র‌্যাবের কমান্ড সেন্টারে। একই সঙ্গে ওই উসকানিমূলক পোস্ট দাতা ব্যবহার করেন এমন ই-মেইলসহ সবকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও চলে আসবে নজরদারির মধ্যে। ওই পোস্টে লাইক দিয়েছেন, কমেন্ট করেছেন কিংবা শেয়ার করেছেন ওই ব্যক্তিরাও একইভাবে নজরদারির আওতায় চলে আসবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ধর্ম নিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করেছেন। ওই সব পোস্ট দাতার বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের শান্তি নষ্ট করার অপচেষ্টাকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেওয়া হবে। র‌্যাব সদস্যরা এ জন্য প্রস্তুত।

যে ৬ অভ্যাসে বাড়ছে ভুঁড়ি ! যে ভুলগুলি আর নয়।

ওজন বেড়ে যাওয়া এখনকার দিনে এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। কেউই চান না নিজেকে মোটা দেখতে আর সেজন্য ওজন কমাতে চেষ্টার কসুর করেন না। তবে সবসময় চাইলেই যে ওজন কমানো যায় তা নয়। তবে শুধু কম বা বেশি খাওয়ার উপরে আমাদের রোগা বা মোটা হওয়া নির্ভর করে না। আরও নানা কারণ এতে অনুঘটকের কাজ করে। খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি মূলত আমাদের জীবনযাত্রার ধরনের ফলেই বেলি ফ্যাট বা ভুঁড়ির সমস্যা হয় আমাদের। আমরা জেনে নেই কোন অভ্যাসের ফলে পেটে চর্বি জমে ভুঁড়ি হয় আমাদের।

১.বসে কাজ করা : রুজি-রোজগারের জন্য করতে হলেও অফিসে বসে বসে কাজ করার চেয়ে খারাপ আর কিছু নেই। ডেস্কে বসে কাজে যেমন পেটে চর্বি বাড়ে, তেমনই এই কাজ শরীরকে আরও খারাপের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

২.না ভেবে খাওয়া : ব্যালান্স ডায়েট মেনে না চললে পেটে চর্বি জমবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি কেমন খাবার খাচ্ছেন, সেটা এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৩.টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া : টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া বা কোনও কাজ করেত করতে খাওয়াকে বলে ‘মাইন্ডলেস ইটিং’। অলসভাবে টিভির সামনে বসে খাবেন না। এতে খাওয়াও ঠিক হবে না, আর বেশিও খেয়ে ফেলবেন আপনি।

৪.কমফোর্ট জোনে চলে যাওয়া : আরাম করা। শাররীক পরিশ্রম না করা। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে কাজ করতে পারলে তবেই অলসতা কাটাতে পারবেন আপনি। একইসঙ্গে ওজন কমাতে বা পেটের চর্বি কমাতেও সাহায্য করবে এটি।

৫.রাতের পার্টি : রাতে নিয়মিত পার্টি বা বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে খানাপিনার আয়োজন করলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি হবেই। আর তা না ঝরালে পেল্লাই ভুঁড়ি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। কারণ রাতের খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে। খেয়েই ঘুমাতে চলে যাওয়া মানে হজম ভালোভাবে হয় না। একইসঙ্গে পেটে চর্বি জমতে শুরু করে।

৬.আসল খাবারে মন না দেওয়া : শাক-সবজি-ফল-শস্য ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবারকেই নিজের ডায়েটে জায়গা দিতে হবে। তার বদলে ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুডে ভরসা রাখলে বিপদ বাড়বে বই কমবে না।

ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

বাংলাদেশ বিশ্বের একটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ট্র্যাফিক জ্যাম দেশের প্রধান সমস্যা, বিশেষত ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলা এই সমস্যা অনেক বেশি। ঢাকা একটি মেগা সিটি এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে এবং ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । সুতরাং, এই বিশাল জনসংখ্যার দ্বারা তৈরি হচ্ছে অনেক সমস্যা। প্রতিদিন সাত লাখ রিক্সা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে এবং এই বিপুল সংখ্যক রিক্সা শহরে ভিতরে একটি ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি করছে কিন্তু মাত্র ৭৫ হাজার রিক্সার রয়েছে আইনি নম্বর বা সরকারি নথি ভুক্ত । সময়ে সময়ে অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এই সংখ্যা কমাতে কিন্তু উদ্যোগ সাধারণত কোন ফলাফল নিয়ে আসেনি ।

ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ট্র্যাফিক জ্যাম আমাদের বাণিজ্য ও বাণিজ্য বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত। অফিস বা স্কুলে যাওয়ার জন্য যদি আমরা বাড়ি থেকে বের হই তাহলে আমরা জ্যামের মুখোমুখি হতে পারি এবং জ্যামের কারণে কেবল মাত্র ২০ মিনিটের পথ দুটি ঘন্টা লাগতে পারে।
আমি ঢাকায় বাস করছি, আমার বাসা থেকে মাত্র ২0 মিনিট দূরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে আমি আমার বাসা থেকে বের হই কারন ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম । এই ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে, বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে । তাই আমরা আমাদের গন্তব্য পৌঁছাতে আরো সময় প্রয়োজন হয় এবং আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে থাকি।
ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য আমরা আমাদের কাজ সময় মত শেষ করতে পারি না তাতে আমাদের শিল্প-বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, যার কারনে আমরা যথাসময়ে পণ্য ও সামগ্রী সরবরাহ করতে পারি না। যদি আমরা শহরের অন্য কোথাও যেতে চাই তবে রাস্তায় দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করতে হবে। একই সাথে এটি আমাদের পরিবেশ দূষিত করেছে কারণ অনেক যানবাহন একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে শব্দ ও বায়ু দূষণ ।
কেন তৈরি হচ্ছে এই ট্র্যাফিক জ্যাম???
ঢাকা শহরের ভেতর ঘন ঘন জ্যাম সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে অনেক কারণ। অবৈধ পার্কিং ট্রাফিক জ্যাম এর জন্য একটি প্রধান কারণ । আমরা প্রায় সময় দেখি যেকানে সেখানে গাড়ি,সিএনজি, রিক্সা, বাস ইত্যাদি পার্কিং করে রেখেছে আর এই পার্কিং এর কারনে তৈরি হচ্ছে ট্র্যাফিক জ্যাম । ভুল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত জনশক্তি ,সংকীর্ণ রাস্তার, এবং ড্রাইভারের ওভারটেক করার মানসিকতা তৈরি করেছে যানজট এবং পাশাপাশি জনসাধারণকে নিমজ্জিত করে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। বাস ড্রাইভার বেশিরভাগই এই ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য দায়ী এবং তারা ট্র্যাফিক নিয়ম এবং সিগন্যালগুলির ব্যাপারে বেশির ভাগ সময় নিয়ম মানছে না। ভিআইপি প্রোটোকল রক্ষণাবেক্ষণ রাস্তায় ঘন ঘন ট্রাফিক জ্যামের আরেকটি কারণ এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির বিভাজক সমস্যা কারনেও ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে থাকে । এছাড়া, ওয়াক্স অ্যান্ড সিউর অথরিটি (ওয়াসা), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডিইএসএ), টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ সংস্থার কোনও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া একই রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং অপরিকল্পিত সড়ক খনন করা অসম্ভব ট্রাফিক জ্যামের জন্য দায়ী। ঢাকায় যে কোনও রাস্তাঘাট সিএনজি, রিকশা, বাস, ইত্যাদি একাধিক লাইন তৈরি করে কারন সবাই আগে যেতে চায়, কিন্তু একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরে এবং সেই কারনেই যানযট আরো বেড়ে যায় ।
Behavioral বিজ্ঞানীরা একটি পরিক্ষায় দেখেছেন যে একজন মাণুষ কোন ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে যদি তার কাজ করতে না পারে তাহলে সে আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। ঠিক একি রকম ভাবে একজন চালক যখন রাস্তায় গাড়ি চালায় কিন্তু যানযটের কারনে কোন দিকে যাওয়া সম্ভব না তখন চালকরা রাস্তার মাজে একাধিক লেন বা একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরবে । অতএব, ঢাকার পথচারীরা,রিক্সাচালক, সিএনজি ড্রাইভার, ভ্যান চালক এবং বাস / ট্রাক ড্রাইভারদের সব লক্ষণীয় আগ্রাসন এবং অন্যের অধিকার কে উপেক্ষা করে কোন নিয়ম না মেনে একটি ছোট ফাঁকা স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা নেমে যাওয়াটা কোন বিস্ময়কর ঘটনা নয় ।

একসাথে এতগুলো রেকর্ড আগে কখনো ছুঁয়ে দেখেনি বাংলাদেশ

কৃতিত্বের সাথেই এবারের ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ করলো বাংলাদেশী টাইগাররা। শেষ ম্যাচে কিউইদের পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ দল। আর এর মধ্যে দিয়েই টাইগাররা ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলো এবং সেই সাথে আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের ছয় নম্বর অবস্থান নিশ্চিত করলো টাইগাররা। আর কিউই বধের এই দিনে অনেক গুলো রেকর্ডের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব । এক নজরে দেখে নেয়া যাক গত কালের খেলার রেকর্ডগুলো।

১। ০

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ছক্কাসংখ্যা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩০ ওয়ানডেতে এই প্রথম কোনো ছক্কা নেই কিউই ব্যাটসম্যানদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন একটি ছক্কা ছিল দলটির ইনিংসে।

২। ৩৫

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের ওয়ানডে উইকেট। সংখ্যাটা বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি লড়াইয়ে সর্বোচ্চ। এই সিরিজের আগে ৩৩ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসার কাইল মিলস।

৩। ৩

বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয়বার এক ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের তিন ব্যাটসম্যান ফিফটি পেলেন। সর্বোচ্চ চারজন ফিফটি পেয়েছিলেন ২০১০ সালে নেপিয়ারে।

৪। ২৪২

এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিসহ সর্বশেষ তিন ওয়ানডেতে টম ল্যাথামের রান। কিউই ওপেনার এর আগে টানা তিন ম্যাচে ৫০ পেরিয়েছিলেন একবারই, ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে (৬০, ৬৪, ৫৪)।

৫। ৯

নয় ম্যাচ পর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেললেন নাসির হোসেন। এর আগে ২০১৪-১৫ মৌসুমে টানা সর্বোচ্চ সাত ম্যাচ একাদশের বাইরে ছিলেন নাসির।

৬। ১ম

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের বোলিং সূচনা করলেন কোনো স্পিনার।

৭। ৬

কাল ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম ইনিংসের প্রথম বলে ছক্কা মারলেন কেউ।

সাইবার ক্রাইম মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়াবে ডিএমপি

ক্রমবর্ধমান সাইবার ক্রাইম মোকাবেলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ১৫ ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ডিজিটাল গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামকে ‘সাইবার অস্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রাজধানীকে অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় আধুনিক ও কার্যকর প্রযুক্তি সন্নিবেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অপরাধ মোকাবেলায় ডিএমপি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপরাধের ধরন অনেকটা পাল্টে যাচ্ছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তৎপরতা চালাচ্ছে। আবার অন্য অপরাধীরা হ্যাকিং, কপিরাইট লঙ্ঘন, পর্নোগ্রাফি, আর্থিক প্রতারণা প্রভৃতি অপকর্মে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, যা সাইবার ক্রাইম হিসেবে পরিচিত। এই অপরাধ দমনে পুলিশের উচ্চ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দরকার।

ক্রয়ের তালিকায় রয়েছে- সাইবার গার্ডিয়ান, রিয়েল টাইম লোকেশন বেইজড সোস্যাল নেট মনিটরিং সিস্টেম, আইপি এনালাইজার, হ্যাকিং অ্যান্ড ইনট্রিউশন সফটওয়্যার, বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক স্ক্যানার, স্কেচ বেইজড ইমেজ রিট্রিভাল সিস্টেম, ফেস কনস্ট্রাকশন টুলস ইত্যাদি। ডিএমপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বেশ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডিএমপি। তার মধ্যে রয়েছে ভেহিক্যাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার, সিসিটিভি মনিটরিং, মোবাইল ট্র্যাকিং সিস্টেম, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশেন প্রসেস, পে-রোল ম্যানেজমেন্ট, সিটি সার্ভিলেন্স সিস্টেম, সিআইএমএস, আর্কাইভিং সফটওয়্যার ও আধুনিক মিডিয়া ব্যবস্থাপনা। এরই মধ্যে পুলিশ বেশ কিছু বিশেষ যন্ত্রপাতি কিনেছে। তার মধ্যে রয়েছে- প্রপার্টি ট্র্যাকিং সফটওয়্যার, হিডেন ক্যামেরা ফর ইন্টিলিজেন্স ওয়ার্ক, ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার, মোবাইল ট্র্যাকার, পোর্টেবল এক্সক্লুসিভ ডিক্টেটর, মোবাইল ভিডিও সার্ভিল্যান্স ইকুইপমেন্ট, সিডিআর এনালাইজার, এন্ডোসকপিক ডোর ক্যামেরা।

ডিএমপির ভবিষ্যৎ ক্রয় পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে ডিজিটাল ক্রাইম সিন ভ্যান, কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইন্টারসেপশন অ্যান্ড মনিটরিং সলিউশন, আধুনিক লাগেজ স্ক্যানার, পার্সোন্যাল স্ক্যানার, ইকুইপমেন্ট ফর রিয়েল টাইম মনিটরিং সেন্টার, ফিঙ্গার ও ফুট প্রিন্ট শনাক্তে আধুনিক রিএজেন্ট, আইপি ট্র্যাপার।

ভবিষ্যতে ক্রয় পরিকল্পনার আওতায় আরও রয়েছে স্নাইপার রাইফেল, মাল্টি গ্যাস লঞ্চার, কর্নার শট রাইফেল, এসল্ট রাইফেল, এলএমজির গুলি, এসএমজির গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড।

এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দক্ষ ও প্রযুক্তিগত আধুনিক যন্ত্রপাতি যতই পুলিশ ব্যবহার করবে ততই পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে। ডিএমপির জনবলকে দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকারের আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ১২০০ কম্পিউটার সংযুক্ত করে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডিএমপি’র অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। নেটওয়ার্কটি চারটি বেইজ স্টেশনকে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (ল্যান) মাধ্যমে ডিএমপির সকল থানা, ডিসি অফিস, মিডিয়া, কমিউনিটি সার্ভিস অফিস, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত যুক্ত করা হয়। আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে ইন্টারমেইল যোগাযোগ চালু রয়েছে। এছাড়া অপরাধীদের ডাটাবেজ সংরক্ষণ, নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্লথিং স্টোর ডাটাবেজ, ডি-স্টোর ডাটাবেজ, ডিসিপ্লিন ডাটাবেজ চালু রয়েছে। এছাড়া ওয়ান স্টপ পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের শাখায় পৃথক ডাটাবেজের মাধ্যমে বিদেশগামী নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের তদন্তের মান উন্নয়নে অপরাধী ও অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও উদ্ঘাটনে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (সিডিএমএস)। সিডিএমএস কার্যক্রম এরই মধ্যে ডিএমপিতে কার্যকর করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সক্ষমতা অর্জনে সিডিএমএস প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি থানায় সিডিএমএস প্রশিক্ষণের জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপির বিট পুলিশের আওতাধীন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য এন্ট্রিতে সিআইএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ২০ লাখের বেশি ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের তথ্য রাখা হয়েছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে অপরাধী ও অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হয়। এতে কোনো অপরাধী পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তার সব তথ্য সংরক্ষণ করা কষ্টসাধ্য। আবার সেই অপরাধী জামিনে বেরিয়ে আবারও সক্রিয় হলে তা অবগত হওয়া সময় সাপেক্ষ। এ জটিলতা দূর করতে অপরাধীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সাসপেক্ট আইডেন্টিফিকেশন ও ভেরিফিকেশন সিস্টেম ডাটাবেজের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। রাজধানীর ৪৯ থানায় এরই মধ্যে বায়োমেট্রিক ডাটা সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু আছে। এ ছাড়া পুলিশের রয়েছে ডাটা রিকভার ফরেনসিক ল্যাবরেটরি। অপরাধীদের মুছে ফেলা তথ্য উদ্ঘাটনে এ ল্যাবরেটরি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এছাড়া হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলার পর ডিএমপির নবগঠিত কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) জঙ্গিবাদ, বোমা ও বিস্ফোরক, মাদক, সাইবার ক্রাইম ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘হ্যালো সিটি’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করেছে। এমনকি ডিএমপি পরীক্ষামূলকভাবে ডিএমপির ১৪টি পথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব পথে যেসব গাড়ি মহানগরীতে ঢুকছে ও বের হচ্ছে তার নম্বর-প্লেটের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

দেশে ক্রমেই বাড়ছে সাইবার অপরাধের মামলা ও অভিযোগ। এ সংক্রান্ত মামলার অধিকাংশ হয়েছে ৫৭ ধারায়। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনটি মামলা নিয়ে ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়। পরের বছর ৩২টি ও ২০১৫ সালে বিচারের জন্য যায় ১৫২টি মামলা। ২০১৬ সালে যায় দেড় শতাধিক মামলা। আরও প্রায় তিনশ’ মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

সাইবার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ৫শ’ মামলা বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে এসেছে। তার মধ্যে ৬০-৬৫টির রায় হয়েছে। সাজার হার ৩০-৩৫ শতাংশ। বাকি মামলা বিচারাধীন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ ইউনিটের এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, সাইবার ক্রাইমের ঘটনায় জ্যামিতিকহারে অভিযোগের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অভিযোগ। তবে যে সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়ছে মামলা হচ্ছে তার ৩০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশ ঘটনায় লোকলজ্জা বা বাদী-বিবাদী সমঝোতা হওয়ায় মামলা হচ্ছে না।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা বলেন, ব্যক্তি সচেতনতা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে সাইবার ক্রাইম মোকাবেলা করতে পারে। এরপরও রাষ্ট্রের সকল পর্যায় থেকে সবাইকে এ অপরাধ মোকাবেলায় যুগোপযোগী কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা, প্রতিকার ও সাবধানতা

ডিএমপি নিউজঃ দ্রুততম সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হলো মোবাইল ব্যাংকিং। আর এই মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই ঘটছে প্রতারণার ঘটনা। কিছু চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে বহু টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং বিশেষ করে বিকাশের মাধ্যমে এ প্রতারণা ঘটছে সবচেয়ে বেশী। সারা দেশে রয়েছে বিকাশের এ রকম হাজারো চক্র আর প্রতারক সিন্ডিকেট। মূলত ক্ষুদে বার্তা এসএমএস এর মাধ্যমেই এ’কাজটি করা হয়। ভুল করে বিকাশে টাকা চলে গেছে এরকম কথা বলে সেই অংকের  টাকা ফেরৎ পাওয়ার আশায় গ্রাহকের ফোনে কল দিয়ে অনেক আকুতি মিনতি করে টাকা হাতিয়ে নেয় এ চক্র। শুধু তাই নয় বিকাশের হেল্পলাইন সদৃশ নম্বর থেকে ফোন দিয়েও করা হয় প্রতারণা। সম্প্রতি বিকাশ এজেন্টের রেজিস্টার থেকে গ্রাহকদের ফোন নম্বর কপি করে টাকা দাবি করারও সত্যতা পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় এর প্রতিকারের উপায় কী তা নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাফিজুর রহমান রিয়েল।

প্রতারণার গল্পটা শুনিঃ

আশিক কাজ করতো আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে। গরীব বাবা-মার একমাত্র সন্তান ও। প্রতিমাসে তাই বাবা-মাকে বেতনের অর্ধেকটাই পাঠায় সে। গত রবিবার ও পাঁচ হাজার টাকা পাঠায়ে ছিল সে। কিন্তু টাকাটা প্লাসে মাইনাসে পুরোটাই মাইনাস হয়ে গেছে। কী ভাবে হলো এটা? জানতে চাইলে আশিক বলেন- আমি টাকাটা পাঠানোর একটু পরেই আমার বাবার ফোনে এক ব্যক্তি ফোন করে বলে যে উনি একজন বিকাশ দোকানন্দার। তার দোকান থেকে একটু আগে ভুল করে তার নম্বরে ৫০০০/- টাকা চলে গেছে। বাবা বললেন দাঁড়ান আমি দেখে জানাচ্ছি। ওই লোক টাকাটা ফেরৎ পাঠানোর জন্য কান্না জড়িত কন্ঠে খুব অনুরোধ করেন ঐ ব্যক্তি। বাবা ফোন রাখার সাথে সাথে আর একটি মেসেজ যায় বাবার  মোবাইলে। বাবা ব্যালেন্স চেক না করেই মার কাছে থাকা ৫০০০/- পুনরায় বিকাশ করে দেন ওই মোবাইল নম্বরে।

কীভাবে চলে এই প্রতারণা?  প্রতারকমিজানের ভাষ্য:
বেশ কিছুদিন আগে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণার কারণে একটি চক্রকে আটক করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে চক্রেরই একজন মিজানুর রহমান তাদের প্রতারণার কৌশল ও কাজের ধরণ নিয়ে দিয়েছেন বেশ কিছু তথ্য। গল্পটি প্রতারক মিজানুরের মুখেই শোনা যাক। উল্লেখ্য মিজানের বাড়ী ফরিদপুর জেলার মধুখালী জেলার ডুমাইল গ্রামে।  আমাদের একজন লিডার আছে। তার নাম খায়ের চৌধুরী। তার অধীনেই কাজ করি আমরা। আমাদের দলের সদস্য সংখ্যা ২০-২৫ জন। যারা সব সময় যেসব দোকানে থেকে বিকাশ হয় সেসব দোকানের আশপাশে ঘুরাফিরা করি। কোন ব্যক্তি বিকাশ করতে এলে কৌশলে যে নম্বরে বিকাশ করা হচ্ছে সে নম্বরটি জেনে তৎক্ষনাৎ লিডার খায়েরকে ফোনে ঐ নম্বরটি জানিয়ে দেই। তিনি প্রথমে ঐ নম্বরে ফোন করে কাতর স্বরে বলেন- ভাই একটু আগে আপনার ফোনে ভুলে আট হাজার টাকা চলে গেছে। একটু দয়া করে ব্যালেন্স চেক করুন। একটু পরেই আবার ঐ ব্যক্তিকে ফোন করে বলা হয় ব্যালেন্স চেক করেছেন। তিনি তখন বলেন-না আমার ফোনে তো পাঁচ হাজার টাকাই এসেছে। ভুল করে কোন টাকা তো আসেনি”।  ব্যস কেল্লাফতে। আমাদের আসলে এতটুকুই জানা দরকার। অ্যামাউন্ট জানার সাথে সাথে ওই নম্বরে ভূয়া ফরওয়ার্ডকৃত আট হাজার টাকার একটি এসএমএস চলে যাবে। পরে আবার তাকে লিডার ফোন দিয়ে বলবে-ভাই দয়া করে এখন একটু ব্যালেন্স চেক করুন। পরে দ্বিতীয় বারের মেসেজ দেখে ওই টার্গেটকৃত ব্যক্তি ব্যালেন্স চেক না করেই  বলেন-হ্যাঁ তিন হাজার টাকা বেশী এসেছে। তখন অনেক আকুতি মিনতি করে ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়-ভাই আমি একজন গরীব বিকাশ দোকানদার। দয়া করে টাকাটা ফেরৎ দিন। না হলে আমার অনেক ক্ষতি হবে। তখন টার্গেটকৃত ব্যক্তি ব্যালেন্স চেক না করেই সাথে সাথে কথিত তিন হাজার টাকা পুনরায় প্রতারকের মোবাইলে বিকাশ করে দেন। এভাবেই চলে প্রতারণা।

বিকাশে টাকা পাঠানোর সময় যেসব বিষয়লক্ষণীয় :

১। অবশ্যই ভালো ও বিশ্বস্ত বিকাশ এজেন্ট থেকে টাকা পাঠান।

২। টাকা পাঠানোর সময় লক্ষ্য রাখুন পাশের কেউ আপনাকে অনুসরণ করছে কিনা। এক্ষেত্রে একটু সাবধান হোন।

৩।  আপনার প্রেরিত টাকার অংক সাথে সাথে বা টাকা পাঠানোর আগে প্রাপককে জানিয়ে দিন।

৪। দ্বিতীয়বার কোন মেসেজ আসলে সেটি যাচাই করুন এবং ব্যালেন্স চেক করুন।

৫। কোন ব্যক্তি বিকাশের টাকা ভাঙ্গাতে আসলে সে ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হোন প্রয়োজনে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখে দিন।

৬। প্রতিটি লেনদেনের পর বিকাশ থেকে প্রেরিত মেসেজের মাধ্যমে পাওয়া ব্যালেন্স ইনফরমেশন এবং আপনার কাঙ্খিত ব্যালেন্সের মিল আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।

৭।  লটারী জেতা,পুরস্কার বা প্রতিযোগিতা এই ধরণের কোন মেসেজ বা ফোন কলে সাড়া দিবেন না। এ ধরণের কোন মেসেজ আসলে তৎক্ষণাত সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের হেল্প সেন্টারে যোগাযোগ করে এ তথ্য জানিয়ে দিন।

৮। খেয়াল রাখতে হবে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠালে মেসেজের উপরে অবশ্যই bKash লেখা থাকবে। কিন্তু ফরোয়ার্ডকৃত মেসেজে কখনোই bKash লেখা থাকে না।

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারিত হলে কীকরবেন :

মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হয়ে থাকলে প্রতারণাকারী  ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি  থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। এছাড়া সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের চালু হওয়া Hello CT এ্যাপস এ গিয়ে সাইবার ক্রাইম অথবা আন্তঃদেশীয় অপরাধ/জালিয়াতি অপশনে ঢুকে আপনার অভিযোগটি সরাসরি লিখে পাঠিয়ে দিন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিবে। এছাড়া সরাসরি ইমেইল পাঠাতে পারেন acdfcc.ct@dmp.gov.bd  এই ঠিকানায়। মনে রাখতে হবে, মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রতারণা ঠেকাতে আপনার একটুখানি সচেতনতাই যথেষ্ট।

যে সামান্য বিষয়গুলো জানলে স্ট্রোক হলেও বাঁচানো যায়, হাত না-কামড়ে ক্লিক করুন

AAA

এই সময় ডিজিটা ডেস্ক: স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের যদি সময়মতো হাসপাতালে না নিয়ে যাওয়া হয় তবে তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু যদি বাড়িতে এমন রোগী থাকে সে ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া টোটকা মনে রাখা উপকারি হতে পারে। যদি ঠিক মতো তা প্রয়োগ করতে পারেন তবে রোগীর প্রাণ হানির আশঙ্কা অনেকাংশে কমানো যেতে পারে। এই পদ্ধতি চিনের আকুপাঙ্কচার চিকিৎসা পদ্ধতি অনুযায়ী করা হয়ে থাকে। চিনের অধ্যাপকদের মতে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে রোগী হয় প্রাণে বেঁচেছেন না হয় চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সময় পয়েছেন। দেখে নিন ঘরে কী ভাবে এই রোগের মোকাবিলা করা যেতে পারে।

SHAREযদি দেখেন রোগী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হচ্ছেন বা হতে পারেন তৎক্ষণাৎ ইঞ্জেকশনের সুঁচ বা সাধারণ সেলাই করার সুঁচ নিয়ে তার সামনের দিকটি আগুনে পুড়িয়ে নিন। এতে সুঁচ জীবাণুমুক্ত হবে। এর পর সেটি নিয়ে হাতের ১০টি আঙুলের ডগার নরম অংশে সামান্য ফুটিয় দিন। এর ফলে যেন রক্তপাত হয় তার দিকে খয়াল রাখতে হবে। এর জন্য আলাদা করে কোনও ডাক্তারি জ্ঞান থাকা আবশ্যক নয়। মিনিট খানেক অপেক্ষা করে দেখুন রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছেন কী না।

দেখুন VDO:

যদি এর পরেও দেখেন তাঁর মুখ বেঁকে যাচ্ছে তা হলে তাঁর দুই কানে ভালো করে মাসাজ করুন। এমন ভাবে করুন যাতে কান লাল হয়ে যায়। এর অর্থ, কানে রক্ত পৌছচ্ছে। এ বার কানের নরম অংশে সুঁচ দিয়ে সামান্য ক্ষত করুন যাতে দুই কান থেকে ২-১ ফোঁটা রক্ত ক্ষরণ হয়। এর ফলে রোগী সামান্য আরাম পাবেন। একটু স্বাভাবিক হলেই তাঁকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, এই পদ্ধতি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায়। যাতে রোগীর চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার

ড. আবেদ চৌধুরী। বর্তমান সময়ে তার যুগান্তকারী একটি উদ্ভাবন হলো সোনালী মিনিকেট চাল। যে চাল খেলে রক্তে শর্করা এবং সুগার কমে যায়। ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

তিনি ৪টি সিলেটি আউশ ধান চেংড়ী, ধুমাই, বাউরস এবং কাচালত (কাঁচালতা) এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করেছেন।
সিলেটে এক মতবিনিময়ে মিলিত হন প্রখ্যাত এই জিন বিজ্ঞানী এবং ধান গবেষক।
ড. আবেদ জানান, ইতিমধ্যে তিনি ৩শ জাতের ধান উদ্ধার করেছেন যা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। বর্তমানে সেই ৩শ জাতের ধান তিনি একসঙ্গে তার গবেষনা এলাকায় নিয়মিত চাষ করছেন এবং বছরে ৩ বার সেই ফসল গোলায় তুলছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি এই কাজ করে আসছেন। তিনি জানান, হাইব্রীড বলে উন্নত প্রজাতির ধান চাষের একটি ধারনা আমাদের অনেকের মনে শক্ত আসন পেতে বসে আছে। ফলে আমরা নিজেদের ধানগুলোকে অবহেলা করে হাউব্রীড গুলোকে গুরুত্ব দেই।

এতে করে আমাদের অনেক নিজস্ব প্রজাতির ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যা ছিলো আমাদের জন্য উপকারী। কিন্তু হাইব্রীড বলে আসলে সেরকম কিছু নেই। চাষীরা হাইব্রীডের যেভাবে যতœ নেয় আমাদের দেশীয় প্রজাতির ধানের যদি সেভাবে যতœ নিতে পারে তবে একই রকম ভালো ফলন এখান থেকে তোলা সম্ভব।

অষ্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের সাবেক এই মূখ্য বিজ্ঞানী বলেন, আমরা যে ৩শ জানের ধানের চাষ করছি তা থেকে ফসল বছরে তিনবার তুলা যাচ্ছে। এর সবগুলো আমাদের নিজস্ব জাত। তিনি জানান, আমাদের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা লাল রঙের চালের প্রতি আগ্রহ কম।
সবচেয়ে দরকারি চাল হচ্ছে লাল রঙের চাল। সাদা রঙের চাল বলতে কিছু নেই সব চালই লাল। তবে মেশিনে ধান থেকে চাল করবার সময় চালের লাল অংশ চেচে ফেলে দিয়ে সাদা এবং চিকন করা হয় আকর্ষনীয় দেখাবার জন্য। আর এতে করে অনেক পুষ্টিগুণ থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।
তবে মানুষ যেহেতু এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে এবং আমাদের দেশের মানুষের বলতে গেলে ভাত না হলে চলে না এবং বাংলাদেশে দিনদিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাই তিনি চিন্তা করলেন কি করে এর একটা সমাধানের পথ পাওয়া যায়। সেই চিন্তা থেকে আবেদ চৌধুরী উদ্ভাবন করেন এক ধরণের চাল যা সোনালী মিনিকেট নামে পরিচিত।
এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অনুমোদিত। তার এইচকেজি এগ্রো থেকে প্রস্তুত বিশেষ এই সোনালী চাল খেলে কার্বোহাইড্রেড এবং সুগার কমে যায় ফলে ডায়াবেটিস অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। মূলত এই চাল তিনি উদ্ভাবন করেছেন অন্যান্য সাদা বা চিকন চালের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার জন্য। যা মেশাতে হবে মূল চালের সাথে ১৫ শতাংশ করে। এতে করে ঐ সাদা চালের সুগার বাড়াবার ক্ষমতা অনেক কমে যায় কিন্তু সেই চালের সাথে যে সোনালী মিনিকেট মেশানো হয়েছে তা বুঝা যায়না। এটা কেবল অনুবীক্ষণ যন্ত্রে ধরা সম্ভব, সাধারণ চোখে নয়। এর বাজারমূল্য অন্যান্য চালের মতো। তবে এই চাল তারা সাধারণ বাজারজাত করছেন না। মূলত বাজারজাতের ফলে কেউ যাতে এর নকল করতে না পারে এবং উদ্দেশ্য নষ্ট করতে না তার জন্যই এ সিদ্ধান্ত। কেউ চাল কিনতে চাইলে সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, তারা ঠিকানা অনুযায়ী তা পৌঁছে দেবেন। এজন্য ০১৭৬৬-৩৭০৪৩৬ এবং ০১৭৬৬-৩৭০৭০৩ এই দুটো নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করতে পারবেন।

.আবেদ চৌধুরী উদ্ভাবিত কালো চাল

কালো রঙের খাবারের গুরুত্ব উল্লেখ করে ড. আবেদ চৌধুরী জানান, কালো রঙের খাবারে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ থাকে এবং তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তিনি তার গবেষণায় তৈরী কালো রঙের চাল, টমেটো এবং জ্যুস সবাইকে দেখান। এগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে খুবই দামি এবং যা বর্তমানে কেবল আমেরিকা ও চীনে কিছু কিছু দেখা যায়। তারা সামনের বছর এই পণ্যগুলো বাজারে ছাড়বার পরিকল্পনা করছেন বলে জানান, এ সময় সিনার্জি কোলা নামে একটি কালো রঙের জ্যুসের সাথে তিনি পরিচয় করিয়ে দেন। পাঁচটি উপাদানে তৈরী এই জ্যুস শরীরের জন্য উপকারী এবং ডায়াবেটিস দ্রুত কমাতে পারে। তবে যারা ডায়াবেটিস কম রাখবার জন্য বিভিন্ন ধরণের ওষুধ খেয়ে থাকেন তাদের বেশি পরিমাণে এই জ্যুস না খাবার পরামর্শ দেন তিনি। এতে করে তাদের সুগার বেশি কমে যেতে পারে। তবে যাদের চর্বি বেশি তারা এটি খেতে পারেন। এই জ্যুস গরম করে চায়ের মতো অথবা ঠান্ডা করে শরবতের মতো খাওয়া যায়। এর বাজার মূল্য রাখা হয়েছে ২৫টাকা। দোকানী কিংবা ডিলারের আগ্রহের উপর ভিত্তি করে এর বাজারজাত করা হবে বলে এসময় জানানো হয়।
ড.আবেদ চৌধুরী বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর গ্রামের সন্তান। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন শেষ করেন। পরে তিনি হাভার্ডসহ বিশ্বের অনেক নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে শিক্ষক-গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে দেশের বাইরে ছিলেন। পরে ২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত দেশে আসা যাওয়া শুরু করেন। ২০০৭ সাল থেকে তিনি পুরোপুরি বাংলাদেশে চলে আসেন এবং কুলাউড়ায় তার পৈতৃক নিবাসে গবেষনা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশ মাতৃকার টানে, দেশের মানুষের কল্যাণে দারিদ্র বিমোচনে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই মূলত তার এই চলে আসা বলে জানান বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী। অষ্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের যেসব গবেষকের নাম নোবেল পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য তালিকায় রয়েছে ড. আবেদ চৌধুরী তাদের একজন।

জীবনে সাফল্য পেতে চাইলে বিল গেটসের এই ৯টি পরামর্শ মেনে চলুন

পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি বিল গেটস তার সাফল্য অর্জনে ব্যবহার করেছেন ৯টি মূল পরামর্শ। এই পরামর্শগুলো তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিন। ম্যাগাজিন বলছে, এই মন্ত্রগুলো প্রত্যেক মানুষের জন্যই দিকনির্দেশনা বা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রথম পরামর্শ : শক্ত মনের জোর। তার কথা, একজন ব্যবসায়ীকে কঠোর পরিশ্রম করতে তাকে এতটাই প্রস্তুত থাকতে হবে যে, বিশ্রাম নেওয়ার মানসিকতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।
দ্বিতীয় পরামর্শ : বাজে পরিস্থিতির শিকার হওয়া। বিল গেটস মনে করেন, জীবনে বড় ধাক্কা খাওয়া বা বাজে পরিস্থিতির শিকার হওয়াও সাফল্যের অন্যতম মূলমন্ত্র।
তৃতীয়

পরামর্শ : কঠোর পরিশ্রম। বিল গেটস মনে করেন, সাফল্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।

চতুর্থ পরামর্শ : ভবিষ্যতকে তৈরি করা। বিল গেটস বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রাখুন। প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত আপডেট করুন। নতুন নতুন আইডিয়াকে সামনে নিয়ে আসুন।
পঞ্চম পরামর্শ: নিজের কাজ উপভোগ করুন। বিল গেটস বলেন, আপনি যে কাজটি করছেন সেটি আপনাকে উপভোগ করতে হবে। ষষ্ঠ মূলমন্ত্র হলো—কার্ড খেলুন। বিল গেটসের প্রিয় খেলা কার্ড। তার মতে, ব্রিজ খেলার বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। এই খেলা আপনাকে চিন্তা করতে সাহায্য করে। যে ব্যক্তি ব্রিজে ভালো সে অন্য অনেক কিছুতেও ভালো।
সপ্তম পরামর্শ : অন্যের পরামর্শ নেওয়া। বিল গেটস বলেন, হতে পারে আপনার কাছে কিছু আইডিয়া আছে যেটা আরেকজনের কাছে নেই। আবার আরেকজনের কাছে যে আইডিয়াটা আছে সেটাও হয়তো বা আপনার কাছে নেই। তাই কাছের লোকদের সঙ্গে আলাপ করা ও পরামর্শ চাওয়া বুদ্ধিমান ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক।
অষ্টম পরামর্শ : ভালো মানুষ নিয়োগ। বিল গেটসের মতে, এমন ব্যক্তিদেরই আপনি আপনার ব্যবসায় সংযুক্ত করুন, যাদের আপনি পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারেন।
নবম পরামর্শ : গড়িমসি না করা। বিল গেটস বলেন, কোনো কাজেই আজ না কাল, কাল না পরশু- এমন করা যাবে না। যখন যে কাজটি করার প্রয়োজনবোধ করবেন তখনই সেটি করে ফেলবেন।

বাসা ভাড়া নেওয়ার পূর্বে আপনার কি করণীয়

নগরায়ন ও বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষ শহর মুখী। জীবিকার তাগিদে আমরা নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে বসবাস করি ভাড়াটিয়া বাসায়। রাজধানীসহ বেশিরভাগ জেলা শহরগুলোতে মানুষ ভাড়াবাড়িতে থাকছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে পোহাতে হচ্ছে নানা ঝামেলা। বাসাটি কেমন হবে, সন্তানরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলাফেরা করতে পারবে কি না, পরিবারের নিরাপত্তা কেমন হবে? এসব নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে। তাই বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার কি করণীয় তা জানাচ্ছে ডিএমপি নিউজ।

একনজরে বাসার ভেতর বাহির দেখুন :  বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনি যে বাসা বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে চান তা দেখে নেবেন।  বাসার দেয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রথম দেখাতেই চোখ দিতে হবে দেয়ালে। দেখুন, দেয়ালে ছোপ ছোপ ভেজা দাগ রয়েছে কি না। এটা শুধু সৌন্দর্যহানির ব্যাপার নয়, এতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও রয়েছে। এমন ভেজা চারদেয়ালের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়।

কতটি বৈদ্যুতিক আউটলেট রয়েছে: আমাদের আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় প্রয়োজন প্রযুক্তিগত পণ্যের ব্যবহার। টেলিভিশন, ফ্রিজ বা অন্যান্য কাজে বাসায় বৈদ্যুতিক সংযোগের দরকার। দেখে নিন, ওই বাসায় মোট কয়টি বৈদ্যুতিক সকেট বসানো রয়েছে। যদি লম্বা তার টেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিতে হয়, তাহলে বিপদ। দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।

গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা :  গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাটার আকার কেমন হবে। আপনার যদি গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকে তাহলে ওই বাড়িতেই পার্কিং করা যাবে কি না,  তাতে নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত স্থানের ব্যবস্থা রয়েছে কি না দেখে নিন। খোলা স্থান হলে প্রহরী ও  সিসি ক্যামেরার দিকে নজর দিন।

জানালা দিয়ে পরিবেশটা দেখুন : ঘরে আলো বাতাস আসার জন্য জানালার কোন বিকল্প নেই। বাসা ভাড়া নেয়ার সময় অবশ্যই জানাল দিয়ে এর আশপাশ দেখুন।  বাসার প্রতিটি জানালা দিয়ে আশপাশে তাকিয়ে দেখুন, কী কী রয়েছে? জানালায় চোখ রাখলেই যদি পাশের ভবনে রেস্টুরেন্ট বা রাস্তার নিয়ন আলো কিংবা আবর্জনার স্তূপের দেখা মেলে, তাহলে বাসাটি না নেওয়াই ভালো।

মালিকপক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলুন : বাসা ভাড়া নেয়ার সময় অবশ্যই মালিক পক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলে নেয়া ভালো । সরাসরি কথা বললে তার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিস্কার হবে। অনেক বাড়ির মালিক অন্য কোথাও থাকেন। যদি তিনি ওই বাড়িতেই থাকেন, তবে সুবিধা। আর না থাকলে জানতে হবে, তিনি কত দিন পরপর ভাড়াটিয়াদের অবস্থা দেখতে আসেন? তাঁদের সমস্যা-অভিযোগের দেখভাল করা মালিকের অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ঘরের পাশের দরজায় কে থাকেন : প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করা যায়। বাসা ভাড়া নেয়ার সময় দেখে দিন আপনার বাসার চারপাশে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা কে, কেমন ও কি করে। এসব বিষয় সম্পর্কে জেনে নেয়া ভালো। যেকোনো সময় কাজে লাগবে।

বাড়িটি বিক্রির জন্য কি না : বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে জেনে নিন যে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে উঠছেন তা বিক্রির চেষ্টা চলছে কি না। যদি তাই হয়, তাহলে বিক্রি হওয়া মাত্রই আপনাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার তাগাদা দেবেন মালিক।

পানি ও গ্যাস:  আমাদের জীবনযাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপর্ণ চাহিদার মধ্যে রয়েছে পানি ও গ্যাস। বাড়িতে সব সময় পানি থাকে কি না এবং বাসার সব সংযোগ থেকে পানি আসে কি না পরখ করে নিন। নির্দিষ্ট সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে জেনে নিতে হবে। ওই বাড়ির পানির মূল উৎস কী, গ্যাসের কী অবস্থা, তা জেনে নিতে হবে।

বাসা মেরামতের বিষয় : বাসায় ওঠার আগে বেসিনের কল নষ্ট বা দেয়ালের পলেস্তার কেমন আছে দেখে নিন। নষ্ট থাকলে বাড়িওয়ালাকে দিয়ে এগুলো মেরামত করিয়ে নিন। যদিও এসব ঠিকঠাক করে দেওয়া বাড়িওয়ালার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবুও কথা বলে নিশ্চিত করে নিন।

ভাড়া নিয়ে চুক্তিপত্র: অনেক সময় বাড়িওয়াল কিছু না বলে যখন-তখন বাড়ির ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কয়েক মাস পেরুতে না পেরুতেই ভাড়ায় যোগ হয় বাড়তি টাকা। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত থাকতে করে নিন ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র। চুক্তিতে বাড়ি ভাড়ার পরিমান, অন্যান্য ইউটিলিটি সুবিধার বিবরণসহ যাবতীয় বিষয় লিপিবদ্ধ আছে কি না দেখে নিন।

বাড়িওয়ালা সম্পর্কে জানুন: ভাড়াটিয়া সম্পর্কে বাড়িওয়ালার যেমন জানার প্রয়োজন রয়েছে ঠিক তেমনি বাড়িওয়ালা সম্পর্কে ভাড়াটিয়ার জানার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়িওয়ালার চারিত্রিক গুনাবলী, আপনার আগের ভাড়াটিয়া কেন চলে গিয়েছিল? সে সব জানার চেষ্টা করুন।

তথ্য ফরমে নাম নিবন্ধন: বর্তমান প্রতিটি বাড়িওয়ালা তার নিজের ও ভাড়াটিয়ার তথ্য নির্ধারিত ফরমে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বাধ্য। বাড়ি ভাড়া নেয়ার পর বিলম্ব না করে বাড়িওয়ালার সাথে সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনি নিজে আন্তরিক হয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য ফরম পূরণ করুন